রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জে খুন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে উদ্বেগ জামায়াতের, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৬
PostImage

নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে খুনোখুনি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।


নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে খুনোখুনি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মো. মাসুদুর রহমান গিয়াস ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যুবদলের দুই পক্ষের বিরোধ ও সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এর দুই দিন আগে রূপগঞ্জে মাহফিলের পোস্টারে নাম দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্রমেই জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এসব ঘটনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তারা বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বারবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দলীয় প্রভাবের কারণে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না পায়, সেটিই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ জনমনে ভীতি, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।

জামায়াত নেতারা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, জমি দখল কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে না। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। অন্যদিকে ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এসব সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো অপরাধের বিচারহীনতা যেন নতুন অপরাধের উৎসাহ না জোগায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, খুন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘর্ষ প্রতিরোধ, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

আরও পড়ুন