শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।
বিমান থেকে নামার পর বিমানবন্দরে উপস্থিত বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা, সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর নিয়ে নগরের রহমতগঞ্জে যাত্রামোহন সেন হলের (জে এম সেন হল) দুর্গাপূজামণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তাঁকে বহনকারী বিমানটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই রহমতগঞ্জে পূজামণ্ডপে প্রবেশের সড়কের দুই পাশে ডাইভারশন দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। সড়কের প্রবেশমুখে গড়ে তোলা হয় নিরাপত্তাবেষ্টনী। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপসহ রহমতগঞ্জের ভেতরে থাকা আরও কয়েকটি মণ্ডপে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে জে এম সেন হলের প্রবেশমুখ ও সড়কের দুই পাশে বিকেল থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ ভিড় করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন দেখতে পান তাঁরা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জে এম সেন হলের প্রবেশমুখসহ আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়ক ও মোড়ে কয়েক গজ পরপর পুলিশ ও আর্মড ব্যাটালিয়নের সশস্ত্র সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। রাতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়।
১৯৯৩ সালে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় তিন দশক পর মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেবেন।