জাতীয়

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:১৭
PostImage

যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তাঁরা আবার ফিরে এসে জনগণের সমর্থন পাবেন—এমনটা কখনোই সম্ভব নয়।


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তাঁরা আবার ফিরে এসে জনগণের সমর্থন পাবেন—এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, ‘এত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, এত নির্যাতন চালিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন যিনি, তিনি এখন বলছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু এ দেশের মানুষের চোখের সামনে এখনো ভাসছে সেই তরতাজা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মুখ, যারা বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেই বিপ্লব কি মুছে ফেলা যাবে? আবু সাঈদের আত্মত্যাগ, মুগ্ধের আত্মত্যাগ, ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ—এসব কি মুছে ফেলা যাবে?’


তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা হঠাৎ প্যারাসুট দিয়ে নেমে আসবেন, সবাই ঢোল বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবে—এটি কি কখনো সম্ভব? বাংলার মাটি বীরের মাটি। এই মাটি বহু বীরের জন্ম দিয়েছে। যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তাঁরা আবার ফিরে এসে জনগণের সমর্থন পাবেন—এটি কোনো দিনই সম্ভব নয়।’


২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের চেতনার মিল তুলে ধরে রিজভী বলেন, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তাঁর ভাষ্য, সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের দেশীয় সহযোগীরা যতই চেষ্টা করুক, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বাংলাদেশকে কখনো আধিপত্যবাদের প্রভাবের মধ্যে নিয়ে আসা যাবে না।


৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দিনটি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরুর দিন নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ারও দিন। এর তাৎপর্য বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়ন এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেও নিহিত। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে বৈরিতা রাখবে কিংবা কার সঙ্গে চুক্তি করবে, তা সরকার ও জনগণের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। এটি কারও নির্দেশে পরিচালিত হবে না।


দীর্ঘদিন দিবসটি পালনে বাধার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে টানা ১৭ বছর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি, ১৯৭৬ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালিত হয়ে এলেও শেখ হাসিনার শাসনামলে তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন সংগঠন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দিবসটি পালন করেছে। ফলে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও চেতনা মুছে যায়নি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের ওপর হামলা ও রক্তপাত বৃথা যায়নি। এসব ঘটনা দেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেতনা সৃষ্টি করেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি একটি দক্ষ ও চৌকস সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীকে রাজনীতিকরণের পক্ষেও ছিলেন না তিনি। রিজভীর দাবি, আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানের অবদান।


দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শত আক্রমণ ও হুমকির মুখেও তারেক রহমান দেশের হাল ধরে দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। ৭ নভেম্বর তাঁদের জন্য এমন একটি কম্পাস, যা বিপদের সময়ও সঠিক পথ দেখায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।