জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া নির্ধারণ কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে পরিবহন মালিকদের দেওয়া খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এর আগে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকেই সড়কে গণপরিবহন চলাচল কমিয়ে দেন মালিকরা। এতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মালিকদের প্রস্তাব পরিবহন মালিক সমিতির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী—মহানগর এলাকায় বাসভাড়া ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লার বাসে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি।
বর্তমানে মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ২ টাকা ৪৫ পয়সা। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা বেড়ে যথাক্রমে ৩ টাকা ৯৬ পয়সা এবং ৩ টাকা ৩৬ পয়সা হতে পারে।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, শুধু জ্বালানি নয়—ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের দাম এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সংগঠনগুলোর দাবি, ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাদের মতে, সেবার মান উন্নয়ন ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া গ্রহণ যৌক্তিক নয়।
উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ বড় পরিসরে বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে। এবার প্রস্তাবিত বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।