সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বিএসএফ একাধিকবার প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন। গত ৭ জুন পর্যন্ত দেশের কারাগারগুলোর অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী বন্দি ২ হাজার ৭৭ জন।
অতিরিক্ত বন্দির চাপ মোকাবিলায় কেরানীগঞ্জ বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে। এছাড়া ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে পাঠানো প্রস্তাবটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আবেদন গ্রহণের সুবিধার্থে বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) চালু করা হয়েছে। এছাড়া আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসায় পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) ব্যবস্থা চালুর কাজও চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মিশনগুলোতে আউটসোর্সিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়ায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের পাসপোর্ট নবায়নের ঝামেলা অনেকটাই কমেছে।