অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। আগে সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হলেও এখন এককভাবে সরকারের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি সেবা মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুর একটি হলরুমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি। আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো, এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, এই মডেলে সরকার অর্থ দেবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতও অর্থায়ন করবে এবং এনজিওগুলো সহযোগিতা করবে। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মডেল গড়ে তোলা হবে। তবে প্রকল্পের সুফল পেতে রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “দেখা যায় যে সরকার অনেককিছু করে, কিন্তু এগুলো আবার মেইনটেনেন্স করা হয় না। এ কারণে এইখানে পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি বর্ষাকালে নগরীর পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমরা ক্লিন ওয়াটারের সাথে সাথে বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটাও সিরিয়াসলি দেখছি। এটা নিয়েও নেদারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গার দুটি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ওই এলাকার পানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমির খসরু বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে এসব কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা। এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ড দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা একসঙ্গে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহ সেবার মান উন্নয়নে কাজ করবে।