জাতীয়

জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি, ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২
PostImage

স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরে পেলেও এর জন্য জাতিকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বুধবার বেলা ১১টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করে ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। পরে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর পরিদর্শন করেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণও করেন রাষ্ট্রপতি।


এ ছাড়া জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন তিনি। শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শনের পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।


পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘রাষ্ট্র কখনো শহীদদের ঋণ শোধ করতে পারবে না’ রাষ্ট্রপতি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।


মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।


এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।


আরও পড়ুন