বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডনের জামিন নামঞ্জুর

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৪
PostImage

আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।


চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন ও রাসায়নিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে তার আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া আসামি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি উপযুক্ত জামিনদার দেওয়ার কথা জানানো হয়।



তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।



মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানের সিলেটে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।


এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমানের বাবা-মা গ্রিন রোডের বাসা থেকে আলাদা থাকতেন। তারা ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর সালমানের স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুল জানান, তিনি ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে জানিয়ে আসেন, সিলেটে যাওয়ার পথে তারা আবার সালমানের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর তারা ও প্রযোজক সিদ্দিক বাসা থেকে চলে যান।


অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়ে তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ছেলেকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে এক নারী সেখানে বসে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সামিরা তখন সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহর মৃত্যু হয়েছে।


মামলার এসব অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়; অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।