বিনোদন

গাজার গণহত্যা নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাতাদের পাশে দাঁড়ালেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২
PostImage

‘নাজা’ তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের সমর্থনে ইসরাইলি দুই শতাধিক চলচ্চিত্র নির্মাতার পিটিশন


গাজায় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘নাজা’-র নির্মাতাদের সমর্থনে একটি পিটিশনে সই করেছেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে।


সমর্থন জানানো নির্মাতাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজের মতো প্রখ্যাত পরিচালকও রয়েছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘শিল্প ও সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজে আয়না ধরা।’


ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে তথ্যচিত্রটি স্পেশাল জুরি প্রাইজ জেতার পর থেকেই এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর নানা সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েন। তাদের প্রতি সমর্থন জানাতেই ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতারা একজোট হয়েছেন।


নির্মাতাদের দেশদ্রোহী বললেন ইসরাইলি মন্ত্রী


ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর নিজ দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই উদ্যোগকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।


তবে ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, সংস্কৃতিমন্ত্রীর এককভাবে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা নেই। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।


তথ্যচিত্রে কী তুলে ধরা হয়েছে?


ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও ‘জেডব্লিউ ফিল্মস’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে গাজায় নজরদারি, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং হামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।


হিব্রু ভাষায় ‘নাজা’ শব্দটি কোনো হামলায় সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা ‘কোলাটারাল ড্যামেজ’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো গুরুতর বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


নির্মাতাদের দাবি, এসব ঘটনা কোনো একক সেনার ভুলের ফল নয়; বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ফল।


তবে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বেনামি উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, সামরিক নিয়ম মেনেই মানুষ এসব হামলার সিদ্ধান্ত নেয় বলেও জানিয়েছে তারা।


উল্লেখ্য, এর আগে ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ নির্মাণ করেছিলেন।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি