জাতীয়

সাড়ে পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরেই আবেগঘন বক্তব্য মির্জা আব্বাসের

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৪
PostImage

অসুস্থতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য


ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নিলেও অসুস্থতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সংসদে যোগ দেন তিনি।


সংসদে ফিরে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্যে এবং বাংলাদেশের জন্যে কাজ করার জন্যে।’


বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে হুইলচেয়ারে করে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন মির্জা আব্বাস। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে স্বাগত জানালে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অভিবাদন জানান। হুইলচেয়ারে থাকায় প্রথম সারিতে বরাদ্দ রাখা আসনে বসতে পারেননি তিনি। তাঁর হুইলচেয়ার পাশের ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়।


এরপর আছরের বিরতির পর বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনার মাঝে মির্জা আব্বাসকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি সামনের সারিতে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের মাইকে বক্তব্য দেন।


‘আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি’ শুরুতে রাজনৈতিক সহকর্মীদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন আছি।’


চিকিৎসা এখনো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছিলাম বললে ভুল হবে, এখনো আছি। আমি রিহ্যাবে আছি। শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসা, এই কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই।’


দীর্ঘ সময় পর সংসদে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আজকের এই দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং চিরস্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে। এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে?’


ঢাকা-৮ আসনে ৫ হাজার ২৩৯ ভোটে জয়

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ৫ হাজার ২৩৯।


১৭ ফেব্রুয়ারি অন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মির্জা আব্বাসও শপথ নেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। পরে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।


সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগের দিনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারালে তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৩ মার্চ তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং পরে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় আগের অধিবেশনগুলোতে যোগ দিতে পারেননি মির্জা আব্বাস। ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তিনি ভোট দিতে পারেননি।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অসুস্থতার সময় নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।



স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুরে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখিনি, আমি তখন অজ্ঞানে ছিলাম। আমি পরে জেনেছি।’

স্পিকারের ওই ভূমিকাকে সংসদীয় রাজনীতিতে ‘মানবিক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়; রাজনীতি মানুষের জন্যে। সংসদ শুধু আমাদের জন্যে নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’


নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য আবার কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সাথে রাজনীতি ও জনসেবার কাজ করতে পারি।’


সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর ১৪ এপ্রিল মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে মূলত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে গতকাল বুধবার রাতে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরদিনই সংসদে যোগ দেন তিনি।

সহকর্মী সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন আমি যাতে বাকি সময়টুকু জনগণের পাশে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে পারি।’


মির্জা আব্বাস এর আগে ঢাকা-৬ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন বিএনপির এই নেতা।