জাতীয়

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২২
PostImage

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। রায়ে উল্লেখিত সাত আসামিই পলাতক রয়েছেন।


২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

আসামিদের যে অপরাধে যে সাজা

ওবায়দুল কাদের


ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে গঠিত ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে ২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে ১ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


মোহাম্মদ আলী আরাফাত

মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


শেখ ফজলে শামস পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশকে ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


মাইনুল হোসেন খান নিখিল

মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেনকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত

রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।


বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সময়ে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।


সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ওবায়দুল কাদের


প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণআন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালায়। এতে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, যা তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করে। এসব ঘটনা তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।


মোহাম্মদ আলী আরাফাত

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটায়। এসব অপরাধ তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


শেখ ফজলে শামস পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করে। এসব ঘটনা তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।


মাইনুল হোসেন খান নিখিল

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করে। এসব অপরাধ তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলনের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে তিনি সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। এসব ঘটনা তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।


শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলনের সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। এসব অপরাধ তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।