অন্যান্য

ভারতে থাকা হাদির হত্যাকারীদের ফেরত আনার সিদ্ধান্ত

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪
PostImage

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর প্রথম ভারত সফরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর প্রথম ভারত সফরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।


বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-এর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সফরের শুরুতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন।


বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের সম্মতি। দুই দেশই বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টি বাস্তবায়নে একমত হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল-কে ফেরত পাঠানোর অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।


ভারতের পক্ষ থেকেও বাণিজ্য, জ্বালানি, সংযোগ ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখায় ভারতকে ধন্যবাদ জানান ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ডিজেল ও কৃষিখাতে ব্যবহৃত সারের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। জবাবে ভারত ইতিবাচকভাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও সার সরবরাহে সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপ ও যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে তারেক রহমান ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর সভাপতি নিতিন নবীন-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। দিল্লিতে সফররত হুমায়ুন কবির বিজেপির আন্তর্জাতিক শাখার প্রধান বিজয় চোথাউওয়ালের মাধ্যমে চিঠিটি হস্তান্তর করেন।

সব মিলিয়ে, এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।