জাতীয়

কুরবানির চামড়া সংরক্ষণে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ মে ২০২৬, ০৫:১৬
PostImage

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া শিল্পের সংকট মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া শিল্পের সংকট মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সারাদেশে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে গঠিত টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সরকারি অর্থায়নে সারাদেশে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চামড়ার মান উন্নয়ন ও অপচয় কমাতে মাংস শ্রমিক ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণে দক্ষতা বাড়ানো হবে।

গত বছর ৯ হাজার ৩৩০টি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য ২০ কোটি টাকার লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন লবণ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে ৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। এতে প্রায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩টি চামড়া সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ এবং অন্যান্য পশু প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ বছর কুরবানির চাহিদা এক কোটির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবার চামড়া সংরক্ষণে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। গত বছর এ খাতে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ ব্যবহৃত হয়েছিল।
টাস্কফোর্স জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ পশুর হাট ও স্থানীয় দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি লবণ ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকাও সরবরাহ করা হবে।
চামড়া সংগ্রহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দেশব্যাপী চামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের একটি খসড়া তথ্যভান্ডারও প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৫ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে কম হতে পারবে না।

চামড়া শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিইটিপিতে বিশেষ বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা এবং সাভার গ্রিড থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।