আন্তর্জাতিক

ইরান হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১৯ মে ২০২৬, ০৪:৩৪
PostImage

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মঙ্গলবারের (১৯ মে) পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মঙ্গলবারের (১৯ মে) পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে ১০৯ ডলারে নেমে আসে। বিবিসি জানিয়েছে, সোমবারজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে’।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে শান্তি আলোচনা কিংবা সংঘাত—উভয় ধরনের খবরেই তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ছে। সোমবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এরপরই তেলের দাম বেড়ে যায়।

এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। তবে পরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানায়, আলোচনার সময় ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। এতে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা তৈরি হলে তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে।

পরে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর নেতাদের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের নোটিশেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।