ধর্মীয় আলোচক রফিকুল ইসলাম মাদানী-র দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশের আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা বৈধ কি না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মুসলিমদের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে এখনো আগের আইনই বহাল রয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি এবং সালিশি পরিষদ বা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে আইনসম্মতভাবে নিবন্ধন করা যায় না।
কী বলছে আইন?
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো মুসলিম পুরুষ পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। আবেদন করার সময় উল্লেখ করতে হবে—
কেন তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান
বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি আছে কি না
নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হবে
এই আবেদন যায় স্ত্রী বা সর্বশেষ স্ত্রীর এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে। পরে চেয়ারম্যান, স্বামী এবং স্ত্রীপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সালিশি পরিষদ গঠন করা হয়। তারা যাচাই করেন দ্বিতীয় বিয়ের আবেদন “প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত” কি না।
হাইকোর্ট কী বলেছে?
২০২২ সালে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে করা এক রিট মামলা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে আগের আইনই বহাল থাকে।
আইনজীবী মিতি সানজানা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ জানিয়েছেন, “স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে”—এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর।
তাদের মতে, হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বিদ্যমান পদ্ধতিই যৌক্তিক এবং বহাল রয়েছে।
অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে কী শাস্তি?
আইন অনুযায়ী, কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে—
বিদ্যমান স্ত্রীর দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে
এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে
অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা
কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে
এ ছাড়া বাংলাদেশে বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। আর সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন করা সম্ভব নয়।
ব্যতিক্রম কী আছে?
কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াও আরবিট্রেশন কাউন্সিল অনুমতি বিবেচনা করতে পারে। যেমন—
স্ত্রী বন্ধ্যা হলে
গুরুতর শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে
দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকলে
তবে এসব ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় সালিশি পরিষদ।
শেষ কথা
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ নিবন্ধন পায় না। তাই “স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ”—এমন দাবি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে সঠিক নয়।
ধর্ম