ধর্ম

কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব

detaillogo
ধর্ম ডেস্ক
১২ মে ২০২৬, ০৬:০৮
PostImage

ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলো কোরবানি।


ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলো কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে পশু কোরবানি করা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
— (সুরা কাওসার: ২)

হাদিস শরিফেও কোরবানির ব্যাপারে বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। হযরত ফাতেমা (রা.)-কে উদ্দেশ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“এই কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।”

তখন হযরত ফাতেমা (রা.) জিজ্ঞাসা করেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি কি শুধু আহলে বায়তের জন্য, নাকি সব মুসলমানের জন্য?”
জবাবে রাসুল (সা.) বলেন,
“এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য।”
— (মুসনাদে বাজযার, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৪)

অন্যদিকে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”
— (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১)

কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, যদি তিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

যেসব সম্পদ নেসাবের অন্তর্ভুক্ত

কোরবানির নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের সম্পদগুলো হিসাব করা হয়—

টাকা-পয়সা
সোনা-রূপা
অলংকার
ব্যবসার পণ্য
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
অতিরিক্ত বাড়ি বা গাড়ি
অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র

তবে বসবাসের ঘর, প্রয়োজনীয় পোশাক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস নেসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বর্তমানে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার বাজারমূল্যের ভিত্তিতে কোরবানির নেসাব নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে কারও কাছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮ টাকা বা সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

তবে রুপার বাজারদর ওঠানামা করতে পারে। তাই ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে চলমান বাজারমূল্য অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শুধু নগদ অর্থ নয়— সোনা, রূপা ও অন্যান্য অতিরিক্ত সম্পদ মিলিয়েও যদি নেসাব পূর্ণ হয়, তাহলে কোরবানি আদায় করা আবশ্যক।

কোরবানির মূল শিক্ষা

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ ও আনুগত্যের প্রতীক। তাই এ ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই করতে হবে।

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে পশু কোরবানি করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই।”
— (তিরমিজি: ১৪৯৩)