২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য চলমান মাসিক ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আহতদের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরেও এই ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ভাতাভোগীর সংখ্যা আরও ১ হাজার ৮৫৭ জন বৃদ্ধি করে মোট ১৬ হাজার ৫১৩ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসন নিশ্চিত করতে চলমান প্রকল্পের আওতায় আগামী অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে
প্রস্তাবিত বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের পরিবারের মাসিক ভাতা হবে ৪০ হাজার টাকা
বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের পরিবারের মাসিক ভাতা হবে ৩০ হাজার টাকা
বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের পরিবারের মাসিক ভাতা হবে ২৫ হাজার টাকা
তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আরও ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণ, অর্থমন্ত্রী জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৪ হাজার ৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।