সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি বাহরির একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রিয়াদ। খবর রয়টার্সের। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাহরির মালিকানাধীন ‘সিদর’ নামের সুপারট্যাংকারটি সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। এতে দুই নাবিক নিহত হন।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাহরি
বাহরি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই নাবিক নিহত হন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জাহাজটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামুদ্রিক শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দেশটি। সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি হয়ে থাকে।
এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি তেল বহনকারী দুটি সুপারট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া যায়। তেহরান অনুমতি ছাড়া ওই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে হুমকি দিয়ে আসছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বাহরির আরও কয়েকটি জাহাজে হামলা
গত জুলাইয়ে ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় বাহরির আরেকটি সুপারট্যাংকার ‘ওয়াদিয়ান’ হামলার শিকার হয়।
এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর জুলাই ও আগস্টে বাহরির ‘মাসা’ ও ‘আমজান’ নামের আরও দুটি জাহাজ লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়।