সারাদেশ

কক্সবাজারের দুই হাজার আইফোন-ল্যাপটপসহ ছয় চীনা নাগরিক গ্রেফতার

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০০
PostImage

আইফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


কক্সবাজারের রামুতে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথমে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকা ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।


পুলিশের ভাষ্য, চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়। রামুর কয়েকটি হোটেলে বিদেশিদের অবস্থানের তথ্য

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রামুর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি হোটেলে কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হতো, তা জানার চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় রামু থানায় করা মামলার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা করে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।