রাজনীতি

বিদ্যুৎ সংকটে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমেছে: ডা. শফিকুর রহমান

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯
PostImage

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে মারাত্মক আঘাত এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির


বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে মারাত্মক আঘাত এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিল্পের মূল খোরাক হচ্ছে বিদ্যুৎ। গ্যাস, তেল ও আল্লাহর দেওয়া সৌরশক্তি—এই তিন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এতে শিল্প খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।


তিনি বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।



জামায়াতের আমির বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। একপর্যায়ে তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ধরে রাখা কঠিন হবে এবং ছাঁটাই করতে বাধ্য হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন কিংবা দেওয়া অর্ডার বাতিল করতে পারেন। একবার ক্রেতারা চলে গেলে তারা আবার কবে ফিরে আসবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।


তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশেই তৈরি পোশাক উৎপাদন হয় না। এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে আরও অনেক দেশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা বিকল্প দেশগুলোর দিকে চলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সরকার জনগণের কথা বলতে দিচ্ছে না: শফিকুর রহমান


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।”


এর আগে শনিবার সকালে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য দোয়া করেন।

কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।