নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টার সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া নিয়ে দেশের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের মার্চে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
দীর্ঘ কয়েক মাসের তদন্ত শেষে মঙ্গলবার ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তিন সদস্যের কমিটি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না যাওয়ার জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী—বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য—তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনিও দায়ী।’
তদন্ত কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।’
তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের মধ্যে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
এ ছাড়া বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হকসহ ওই সময়ে বিসিবিতে দায়িত্ব পালন করা আরও কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর, সেই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নিতে পারেনি তদন্ত কমিটি।