ইরানে স্থল অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড (প্রায় ৪০০ কেজি) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এই ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে তারা এই পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তরে রাজি হয়।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান এই উপাদান নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগে তা দখলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেও তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, খুব দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা শুরু না হলেও পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক-এর মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এসব দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে ৩,৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা, যার মধ্যে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রোববার রাতে ট্রাম্প আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে চলতে হবে, নচেৎ দেশটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইরানের ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত এই পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দুইমুখী কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চাপে রাখতে চাইছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমআর//