মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এর প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক দফায় তেলের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে জ্বালানির বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়কেও—যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে এশিয়ার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ স্বাভাবিক না থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
গত মাসের শেষ দিকে দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দিয়ে দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় সরবরাহ চালানো সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে জানা গেছে।
ডিজেলের মজুতও একইভাবে চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কার্যক্রম কমিয়ে আনার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
এমআর//