অর্থনীতি

আর্থিক খাত ‘রাজনীতিকীকরণে ক্ষতিগ্রস্ত’, ব্যাংক খালি হয়ে গেছে: অর্থমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৩
PostImage

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণের কারণে দেশের আর্থিক খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যত ‘খালি’ হয়ে গেছে।


অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণের কারণে দেশের আর্থিক খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যত ‘খালি’ হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী শাসনামল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের সময়কালও অর্থনীতির জন্য খুব ইতিবাচক ছিল না।


শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক প্রভাব। এতে ব্যাংকগুলো আন্ডার ক্যাপিটালাইজড হয়ে পড়েছে এবং বেসরকারি খাতও একই সংকটে রয়েছে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের পুঁজি ক্ষয় হয়েছে, ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে পারছে না এবং কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে পুনরায় সচল করতে রি-ক্যাপিটালাইজেশন প্রয়োজন হলেও সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক প্রভাবেও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং রাজস্ব ও আর্থিক খাত উভয় ক্ষেত্রেই সংকোচন দেখা দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি একটি সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল, যা একটি ‘অলিগার্কিক’ কাঠামো তৈরি করে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জনসংখ্যার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের কথাও জানান তিনি। তার মতে, অতিরিক্ত টাকা ছাপানো বা বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতিতে সরকার অটল রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া’ সংক্রান্ত খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, এ ধরনের নীতি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং তা থেকে সরে আসাই সরকারের লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় কমবে এবং কার্যত তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্টার্টআপ, গ্রামীণ কুটিরশিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।