যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধে ইরানের বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানগামী পণ্যের জন্য ছয়টি স্থল রুট আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। এতে করাচি বন্দরে আটকে থাকা হাজার হাজার কন্টেইনার সরানোর পথ তৈরি হয়েছে।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এর ফলে তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সড়কপথে ইরানে পাঠানো যাবে।
নতুন রুটগুলো করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদর বন্দরের সঙ্গে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তকে যুক্ত করেছে। বিশেষ করে গোয়াদর-গাবদ করিডোরকে সবচেয়ে দ্রুততম রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় সীমান্তে পৌঁছানো সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই রুটে পরিবহন খরচ ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং পশ্চিম এশিয়ার বাজারে প্রবেশ সহজ করবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে এ উদ্যোগ ঝুঁকির মুখেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক