বঙ্গোপসাগরে নিজেদের জলসীমায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে ভারত। শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের আগে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ আকাশপথজুড়ে ‘নোটাম’ (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করে ভারত সরকার। গত ৬ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত ওই করিডোরে আকাশসীমা সীমিত রাখা হয়।
শনিবার (১০ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখতে অগ্নি-৬-এর মতো না হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম প্রকাশ করেনি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। একই সঙ্গে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করেনি।
সম্প্রতি এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলেই আমরা অগ্নি-৬ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ এর কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর সামনে এলো।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আইসিবিএম প্রযুক্তি কোনো দেশের ‘দ্বিতীয় প্রতিশোধমূলক হামলা’ (second-strike capability) নিশ্চিত করে। ফলে প্রতিপক্ষ দেশ আগে হামলা চালাতে নিরুৎসাহিত হয়।
এদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘অগ্নি-৬’ নিয়ে একটি প্রচারণামূলক পোস্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়, ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লা এবং এমআইআরভি প্রযুক্তিসম্পন্ন অগ্নি-৬ ভারতের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশটিকে বিশ্ব পরাশক্তির কাতারে নিয়ে যাবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো সীমিত কয়েকটি দেশের কাছেই আইসিবিএম সক্ষমতা রয়েছে এবং ভারতও সেই তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে যাচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সত্যিই যদি ভারত সফলভাবে আইসিবিএম প্রযুক্তির পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকে, তাহলে তা দক্ষিণ এশিয়াসহ বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়তে পারে।
বর্তমানে রাশিয়ার কাছে ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আরএস-২৮ সারমাত এবং আর-২৯আরএমইউ২.১ লেয়নার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চীনের ডিএফ-৪১ ক্ষেপণাস্ত্র ১২ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের এলজিএম-৩০জি মিনিটম্যান-৩ এবং নতুন এলজিএম-৩৫ সেন্টিনেলও আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়াও অতীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।