আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের সরকারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, একের পর এক মন্ত্রী ও দলীয় নেতার পদত্যাগ

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১৪ মে ২০২৬, ১৪:২০
PostImage

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মুখে পড়েছেন।


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মন্ত্রী ও দলীয় নেতার পদত্যাগে দেশটির সরকারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবশেষ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।


গত কয়েক দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। পাশাপাশি একদিনেই ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীও পদত্যাগ করেন। যদিও শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি। এদিকে কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা নেতৃত্ব পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তবে দলের একটি বড় অংশ, অর্থাৎ দেড় শতাধিক সংসদ সদস্য এখনও কিয়ার স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নয়।

দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরাল হলেও এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। তবে অ্যান্ডি বার্নহাম বর্তমানে সংসদ সদস্য না হওয়ায় তার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হতে পারে।


লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবিই এই রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ। ওই নির্বাচনে ইংল্যান্ডে দলটি এক হাজার একশোর বেশি কাউন্সিল আসন হারায়। পাশাপাশি ওয়েলসে দীর্ঘ ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং স্কটল্যান্ডেও রিফর্ম পার্টির কাছে পিছিয়ে পড়ে তারা।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের ভেতরে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা রেইনার দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা কর-সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই শুরু হলে তা সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি শিগগিরই নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ আনতে পারেন।