লাইফস্টাইল

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার ও অভ্যাস জরুরি

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২৬, ১৬:৪২
PostImage

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের পুষ্টি চাহিদাও বদলে যায়। তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস।


আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের পুষ্টি চাহিদাও বদলে যায়। তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, বদহজম, ডায়রিয়া, ত্বকের সমস্যা ও অতিরিক্ত দুর্বলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শুরু থেকেই শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি।


বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গরমে যেসব খাবার বেশি উপকারী

পানিযুক্ত শাকসবজি-গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ও পানির ঘাটতি পূরণে শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পালং শাক, লেটুস, শসা, মুলা, পুদিনা, লাউ, পেঁপে, ঝিঙা, ধুন্দল ও চিচিঙ্গার মতো সবজিতে প্রচুর পানি থাকে। এসব সবজি দিয়ে সালাদ বা হালকা স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। ভিটামিন সি পেতে সঙ্গে লেবু বা কাঁচা মরিচ খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টক ও মৌসুমি ফল

লেবু, কমলা, আমড়া ও আমলকির মতো টক ফলে ক্যালরি কম এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়া তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, জাম, জামরুল, আম ও কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খেতে বলা হয়েছে।

ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবার

অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। এজন্য ডাবের পানি, দুধ, দই, ফলের রস, কলা, আনারস, আঙুর, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম ও কুমড়ার বীজ উপকারী।

মাছ ও হালকা খাবার

প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বেশি ভাজা নয়, ভাপিয়ে বা হালকা রান্না করে খেতে বলা হয়েছে। পাতলা ডালও গরমে ভালো খাবার হিসেবে বিবেচিত।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার

টমেটো, পেয়ারা, তরমুজ ও বেরিজাতীয় ফল শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে তরমুজে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকায় এটি গরমে খুবই উপকারী।

যেসব পানীয় উপকারী

বিশুদ্ধ পানি, ঘরে তৈরি লেবুর শরবত, বেলের শরবত, লাচ্ছি, স্যুপ ও ডিটক্স ওয়াটার খাওয়া ভালো। তবে খোলা জায়গার শরবত, আখের রস বা অপরিষ্কার পানি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে, কারণ এগুলো থেকে ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যা হতে পারে।

গরমে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড কম খেতে হবে

কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলতে হবে

বাসি খাবার খাওয়া যাবে না

অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন ও মেয়োনেজ কম খেতে হবে

খুব বেশি ঠাণ্ডা বা অতিরিক্ত গরম খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

প্রচণ্ড রোদে বেশি সময় বাইরে থাকা ঠিক নয়

বিকেলে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে

আরামদায়ক ও হালকা রঙের পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।