রাজনীতি

দুদকের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বক্তব্যে মানহানি, দুঃখপ্রকাশের দাবি আসিফ মাহমুদের

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৯
PostImage

মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে ওই বক্তব্যের কারণে তার মানহানি হয়েছে দাবি করে দুদকের কাছে ‘অ্যাপোলজি’ বা দুঃখপ্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দুদকের মুখপাত্র জনাব আক্তারুল ইসলাম আজ সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানালেন। প্রতিটা মিডিয়ায় নিউজ হলো, অনুসন্ধান শুরুর আগেই নাকি উনারা প্রমাণ পেয়ে গেছেন।’


তিনি আরও লেখেন, ‘প্রমাণ ও সত্যতা পাওয়ার নিউজে আসিফ মাহমুদের মানহানি করা হলো।’ আসিফ মাহমুদ বলেন, কিছুক্ষণ আগে দুদকের মুখপাত্র সাংবাদিকদের একটি গ্রুপে বার্তা দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার কথা বলেছেন।


এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদের এই মানহানি করার জন্য দুদক কি কোনো অ্যাপোলজি করবে?’ দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের গ্রুপে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান।


দুদকের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বক্তব্যে মানহানি, দুঃখপ্রকাশের দাবি আসিফের 

এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় দুদক।


সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্ত্রণালয়ে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।


দুদকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের আদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।