এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একই সঙ্গে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লংমার্চে সরকার ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হামলা করে লংমার্চ থামানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির নেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করতে সমন্বয় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার-সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে বিরোধী জোট।
শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর মোড় ঘিরে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।
লংমার্চের সম্ভাব্য সময়সূচি
সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবারের বিরতি হবে। বেলা ৩টার দিকে লংমার্চ ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৌঁছে আরেকটি সমাবেশ করবেন তাঁরা।
এরপর রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। পরে পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনায় লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ জোটের।
হামলা করে লংমার্চ থামানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেই এসেছি। যদি কোনোভাবে হামলা করার চেষ্টা করা হয়, এই লংমার্চকে কোনোভাবেই থামানো যাবে না। যতই বাধা আসুক, যতই বিঘ্ন সৃষ্টি করা হোক, লংমার্চ ঠেকাতে তারা যত প্রস্তুতিই গ্রহণ করুক না কেন—কোনো বাধা-বিঘ্নই আমাদের লংমার্চের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’
সরকারের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সরকার। জনভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই এই লংমার্চ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানিসংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, লংমার্চ সফল করতে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশের পরামর্শ মেনেই কর্মসূচিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে সড়কে ‘এক লাইনে’ গাড়িবহর চলবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এমনিতেই সারা দেশের মানুষ অস্বস্তিতে রয়েছেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণ ভোগান্তিতে আছেন। লংমার্চের কারণে সেই ভোগান্তি যেন আরও না বাড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা হবে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনাদের কথা শুনতেই আমরা আসছি। আপনারা রাস্তার কাছে চলে আসবেন। আমরা আলোচনা করব—কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাস্তার দুপাশে মানুষ সাদরে লংমার্চকারীদের গ্রহণ করবে।’
তিনি বলেন, লংমার্চের পর তাঁরা আবার যেসব মানুষের কাছে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করবেন। ওই সমাবেশ থেকে সরকারের খেয়ালিপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা দিয়ে দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
‘আমাদের এক লাখ লিটার তেল লাগবে না’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, এই লংমার্চে নাকি এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। না, আমাদের হবে না। কারণ, আমাদের এখানে লাল বাসের বহর থাকবে না, গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে তেলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিলে আমাদের লংমার্চ সুন্দর হবে।’
নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি সারজিসের
লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে দায় আমাদের ওপর দিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চে আসতে আগ্রহীদের সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও অনুসারীরা হুমকি এবং হয়রানি করছে। তারা নিজেরাও বিগত সরকারের সময়ে জুলুমের শিকার হয়েছে। একই পথ যেন তারা অবলম্বন না করে। যদি করে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমন্বয় সভায় অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।