জাতীয়

গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই: জাহেদ উর রহমান

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬
PostImage

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।


গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিষয়টি আদালতের এবং মামলা নিজস্ব গতিতেই চলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ বার্তা আছে কি না।


জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি আদালতের। কর মওকুফের বিষয়ে আগের রায় কী ছিল, কেন তা তখন কার্যকর হয়নি এবং অন্তর্বর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত ছিল—এসব বিষয় এখন বিস্তারিতভাবে সামনে এসেছে। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই।


মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সংশ্লিষ্টরা চাইলে বিষয়টি নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। তবে সেখানে তারা সফল না হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।


জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকারের কোনো রকম ইনভলভমেন্ট নেই, কারণ ড. ইউনূস বা আর কারও প্রতি কোনো অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নেই।’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি বিচার বিভাগের বিষয়। সরকার বিশ্বাস করে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে।


সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে।


কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা দেখতে চাই, অনেকে বলি না যে ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারও ফাঁসির রায় দেখে ভীষণ খুশি হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছি কি না।’


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই, সেটি নিশ্চিত হচ্ছে কি না, আমরা তা দেখতে চাই।’