জাতীয়

মাদক সিন্ডিকেটের হোতাদের সতর্ক করলেন আইনমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫
PostImage

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।


মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাঁকেও সতর্ক করছি।’ গুম ও ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার গুম ও ক্রসফায়ার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। গত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ক্রসফায়ার।


তিনি বলেন, ‘বিএনপি–জামায়াত করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এর ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বাদী হয়েছিল পুলিশ। আমরা এই সংস্কৃতি বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের এখানে একটা কেস স্টাডি এসেছে, মিরাজ শেখের কেস স্টাডিটা। একটা গুমের অভিযোগ এসেছে। এটাও আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ও গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকাজ অব্যাহত রেখেছি। আমরা চাই না মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচারবঞ্চিত হোক।’


বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যত শক্তিশালী হোন না কেন, বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তাঁর ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন আর জনগণ বলবে খুন করলেও কিছু হয় না। পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি।’


জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের এমপি মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা সিভিল সার্জন আসম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।