আন্তর্জাতিক

ইরানে গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবও

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১৩ মে ২০২৬, ০৩:৫৫
PostImage

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা।


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা। এসব হামলা সরাসরি ইরানের মাটিতে চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরব আগের চেয়ে আরও দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান নিয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এই হামলাগুলো চালায়। একজন কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবে চালানো হামলার জবাব হিসেবেই পাল্টা এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। একইভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক থাকা সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে প্রায় ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সৌদির এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে বিমান হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য ছয় দেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো এবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরব পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার বিষয়ে সৌদি আরব ইরানকে অবহিত করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ হয় এবং সৌদি আরব আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়। পরে উত্তেজনা কমাতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শিয়া ও সুন্নি শক্তি হিসেবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়।

এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে।
পশ্চিমা সূত্র জানায়, মার্চের ২৫ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবে চালানো অধিকাংশ হামলা সরাসরি ইরান থেকে নয়, বরং ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সরাসরি হামলা কমালেও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল। ১২ এপ্রিল সৌদি আরব ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলার প্রতিবাদ জানায়।
এপ্রিলের ৭ ও ৮ তারিখে যুদ্ধবিরতির শুরুতেই আবারও সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।