যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসান, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে উভয় দেশের কর্মকর্তারা। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।’
এর কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সোমবার ভোরে এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। শাহবাজ শরিফ বলেন, সমঝোতার আওতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এর মধ্যে লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।
পরবর্তী আলোচনায় ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও।”
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় অস্ত্রমানের বিশুদ্ধতার কাছাকাছি পর্যায়ে সমৃদ্ধ করা ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎই আগামী আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। কয়েক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান, লেবানন, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।