আন্তর্জাতিক

বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৫
PostImage

দ্রুত কৌশলগত অগ্রগতি, জোরদার সৌদি বিমান হামলা


লোহিতসাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ওই এলাকা থেকে পিছু হটার পর হুতি যোদ্ধারা এখন প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপটিতে অবস্থান করছেন।

এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


দ্রুত কৌশলগত অগ্রগতি, জোরদার সৌদি বিমান হামলা

গত সপ্তাহ থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু করে হুতিরা। একের পর এক সাফল্যের মাধ্যমে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি সামরিক জোট পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মোখা বিমানবন্দরেও সৌদি জোট দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা হুতিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি।


বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার খবরের মধ্যে ইয়েমেনের এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। লোহিতসাগর হয়ে সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য চলাচলে বাব আল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জন্য নৌপথটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সৌদি জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি এএফপিকে বলেন, সৌদি আরব যুদ্ধ এড়ানোর সব ধরনের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। হুতিরা সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং এখন ব্যবস্থা না নিলে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে।


মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে

এদিকে এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই যোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মোখা বন্দরনগরী থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দারা পরিস্থিতিকে ‘প্রলয়ংকরী’ বলে বর্ণনা করেছেন। পালানোর পথে ডাকাতদের হামলার খবরও পাওয়া গেছে।


জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংঘাত আঞ্চলিকভাবে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা পরিষদকে হুতিদের হামলা বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তির পথে ফিরে আসার বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


আবারও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের জুলাইয়ে হুতি ও সৌদি সামরিক জোটের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি ইয়েমেনকে ফের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।