আন্তর্জাতিক

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন আইন আনছে ইইউ

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২০
PostImage

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সম্ভাব্য বয়সসীমা নিয়ে ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন আইন প্রস্তাব করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।

এর এক দিন আগে বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সম্ভাব্য বয়সসীমা নিয়ে ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রান্স ও গ্রিসসহ ইইউর বিভিন্ন সদস্যদেশ এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

২৭ দেশের জোটের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লেইন এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেন।

ইইউ কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ গিল সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ফন ডার লেইন ও ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক কমিশনার হেনা ভিরকুনেন যৌথভাবে ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ উপস্থাপন করবেন।

প্রস্তাবিত আইনে শিশুদের ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘ডিজাইন থেকেই নিরাপদ’ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন ফিচার সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব আসতে পারে, যেগুলো শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে বা অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটাতে উৎসাহিত করে।

এ ছাড়া শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ইইউ। বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল ১৩ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা চায়।

শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হয়েছে।

এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির তৈরি করেছে।