ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে এই মুহূর্তে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য করেছেন তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল। বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক কামেল বলেন, যুদ্ধের আগের বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান কীভাবে বিশ্ববাজারকে ব্যবহার করছে, তা এর একটি উদাহরণ। কামেল বলেন, “আমরা দেখেছি, এই পর্যায়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার লক্ষ্যে বিশ্ববাজারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরির জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”
তিনি উল্লেখ করেন, নিজেদের শাসনব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং রিয়াদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে হুতিরা চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা-নির্ভরতার বিষয়েও মন্তব্য করেন অধ্যাপক কামেল। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ওপর রিয়াদের দীর্ঘস্থায়ী নির্ভরতার কারণে সৌদি আরবকে এখন এর ‘মাশুল গুনতে হচ্ছে’।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে ইয়েমেন সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিশর সফরও প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে বলে মনে করেন কামেল। তার মতে, সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই সফর খুব একটা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ কায়রোর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।