আন্তর্জাতিক

আবারো কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪১
PostImage

চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।


চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপ এলাকায় মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বিমানবাহিনী হামলা চালায়। এতে জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ইউনিট কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব ঘাঁটি বা অঞ্চল ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে, সেগুলোকেও দায় বহন করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার কাছে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রতিবেশী দেশের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।