ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাম্প্রতিক রদবদল, গ্রাহক বিক্ষোভ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগ ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। তাই সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।’
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী নোটিশটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান। আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়।’
এ সময় কারও নাম উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, তার যে যাতনা হচ্ছে, সেটা তারা বুঝতে পারছেন।’ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্যের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর রয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি থাকলে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস (রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন এবং এই অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একটি মহল ‘গ্রাহক’ পরিচয়ে আন্দোলন করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। এছাড়া নিয়ম না মেনে চাকরিচ্যুত করা প্রায় ৯ হাজার কর্মীর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।