তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে বিএনপিই প্রথম ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। বর্তমান সরকার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শাপলা চত্বরের ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি ভুয়া মামলার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য আড়াল করারও চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১১ দলীয় জোটের নেতারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল ফ্যাসিবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে শাপলা চত্বরে নৃশংসভাবে প্রায় দুই লাখ গোলাবারুদ ও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। অথচ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কেউ মারা যায়নি, হুজুররা লাল রং মেখে শুয়ে ছিল। একজন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন, তা প্রশ্নবিদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে এবং তদন্তে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে’র শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান আলাদা নয়; বরং একই ধারাবাহিকতার অংশ।