জাতীয়

সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯
PostImage

ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর আস্থা ও সমর্থনের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং তিনি তা বিনয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।

এ সময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারী দেশগুলোর জনগণ, তার টিম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটও সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আরও কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। আসন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া উন্নয়ন অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য গৃহীত আন্তর্জাতিক কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান নবনির্বাচিত সভাপতি।

তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংহতি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব।