জাতীয়

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯
PostImage

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড


রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।

পরে শিশুটিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দরজায় বারবার ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিন সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২৪ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

অভিযোগ গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিচারক রায় ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।