জাতীয়

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশ ইনের চেষ্টা ভারতের

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ জুন ২০২৬, ১৭:৪৭
PostImage

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে।


ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। রোববার (৭ জুন) কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের গ্রহণ না করায় এসব মানুষ সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন। সংগঠনটির দাবি, আটকে পড়াদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তাদের দিন কাটছে। এপিডিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাংলাদেশি বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে থাকা এসব মানুষ কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

সংগঠনটি এই পরিস্থিতিকে একটি মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের কথিত ‘থ্রি-ডি’ (চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও নাগরিক পরিচয় মুছে ফেলা) নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের নীতি ভারতের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে। বাংলাদেশি সূত্রের দাবি, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক ডজন মানুষ আটকা পড়েছেন।


অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত সাড়া দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

এদিকে ভারতের কিছু গণমাধ্যম সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশ করেছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।


পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা সব মানুষকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করাও সমান জরুরি। সেই ভারসাম্য রক্ষা না হলে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।