নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে বিদ্যুতের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিইআরসি এ ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণার দিনই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আবাসিক গ্রাহকদের নিচের দুই ধাপের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। আবেদনে লাইফলাইন গ্রাহক এবং প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য আগের মূল্য বহাল রাখার পাশাপাশি শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি স্ল্যাব চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসির পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে প্রান্তিক (লাইফলাইন) গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদিত প্রস্তাবের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের নীতি হলো প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। তাই লাইফলাইন গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিইআরসি লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহারই বহাল থাকবে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ গ্রাহক লাইফলাইন সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পল্লী অঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবার, যারা সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন।