রাজধানীর পল্লবীতে বহুল আলোচিত শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে সকালে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।
গত সোমবার (১ জুন) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।
এর আগে গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। একই দিনে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার মাথা দেখতে পান তারা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মামলার রায়ের দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।