জাতীয়

জিসান ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা, বক্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি বিরোধী দলের

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন ২০২৬, ১৪:০৫
PostImage

রাজধানীতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


রাজধানীতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্চ) দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। পরে তিনি জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় জিসানের এক আত্মীয়ও সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১১ জুন জিসান নিজেই আত্মগোপনে যান এবং পরে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এরপর ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, বিচারাধীন ও বিতর্কিত একটি বিষয় সংসদে এভাবে উপস্থাপন করা উচিত হয়নি এবং এটি একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার চেষ্টা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান ও অভিযোগকারী নারী—উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার আগেই কেন বিষয়টি সংসদে আলোচনা করা হলো। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জিসান-সংক্রান্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।


এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বিবৃতির ওপর সাধারণত বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সংসদীয় বিধির পরিপন্থী প্রমাণিত হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ নিজ নিজ আসনে ফিরে গেলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।