সারাদেশ

টিকটকে নাচ-গানের অভিযোগে নারীর দাফনে বাধা

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৫
PostImage

চুয়াডাঙ্গায় টিকটকে নাচ-গান করার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।


চুয়াডাঙ্গায় টিকটকে নাচ-গান করার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে রাতেই তাকে দাফন করা হয়। 

স্বজনদের দাবি, বুধবার ঝিনাইদহে সুবর্ণা আক্তার-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ভাড়া বাসায় আনা হলে দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়রা।


পরে আলোচনা ও সমঝোতার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দৌলতদিয়াড় গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রথমে দাফনে বাধা এলেও পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং একই কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাবাসীর একটি অংশ দাবি করে— কবরস্থানে দাফনের জন্য জীবিত অবস্থায় সদস্য হওয়া প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি টিকটক ও সামাজিক মাধ্যমে নাচ-গান করার কারণে অনেকে সুবর্ণাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন।


স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সুবর্ণার আচরণ সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অশ্লীল” ভিডিও প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ আবার বলেন, যেহেতু পরিবারটি ওই এলাকায় ভাড়া থাকত, তাই তাকে পৈত্রিক বাড়ি বা স্বামীর বাড়িতে দাফন করা উচিত ছিল।

জানা গেছে, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তুহিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরে পারিবারিক কলহের জেরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেল নামে আরেক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।

পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে সুবর্ণা আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে সুবর্ণার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে পরিবারের অন্য সদস্যদের দাফনে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার প্রথমে কবর খোঁড়ারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের পর দাফন সম্পন্ন হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবলুর রহমান জানান, কবরস্থানের কিছু নিয়ম রয়েছে এবং সদস্যপদ না থাকায় আপত্তি ওঠে। পাশাপাশি সুবর্ণার সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।