যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইডাহো অঙ্গরাজ্যের মাউন্টেন হোম বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক এয়ার শো চলাকালে মাঝ আকাশে সংঘর্ষে জড়িয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। তবে বড় ধরনের এই দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন দুই বিমানের চার ক্রু সদস্য।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিটের মুখপাত্র কমান্ডার অ্যামেলিয়া উমায়াম জানান, দুর্ঘটনায় পড়া বিমান দুটি ছিল ইউএস নেভির ইএ-১৮জি গ্রোলার মডেলের যুদ্ধবিমান। ওয়াশিংটনের হুইডবে আইল্যান্ডভিত্তিক ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১২৯-এর অংশ হিসেবে তারা আকাশে মহড়া প্রদর্শন করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রদর্শনীর সময় বিমান দুটি অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে। একপর্যায়ে সেগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের দিকে ঘুরতে ঘুরতে পড়তে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে চারজন ক্রু সদস্য প্যারাস্যুট নিয়ে নিরাপদে লাফিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমান দুটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়।
ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চারজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্ঘটনায় বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত কোনো দর্শক বা সামরিক সদস্য আহত হননি। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বিমানঘাঁটি লকডাউন করা হয় এবং এয়ার শোর বাকি সব আয়োজন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গুজ্জেত্তি বলেন, মাঝ আকাশে এ ধরনের সংঘর্ষের পর সাধারণত বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তবে এই ঘটনায় সংঘর্ষের পর বিমান দুটি কিছু সময় একসঙ্গে আটকে নিচে নামছিল, ফলে ক্রু সদস্যরা ইজেক্ট করার জন্য মূল্যবান কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়েছেন।
তার মতে, প্রাথমিকভাবে এটি যান্ত্রিক ত্রুটির চেয়ে পাইলটের ভুল সিদ্ধান্তের ফল বলেই বেশি মনে হচ্ছে। কারণ, ফর্মেশন ফ্লাইটে সামান্য ভুলও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিমান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেফটি অপারেটিং সিস্টেমসের প্রধান জন কক্স বলেন, এয়ার শোতে অংশ নেওয়া পাইলটরা বিশ্বের সেরা দক্ষ পাইলটদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু এমন প্রদর্শনীতে ভুলের সুযোগ খুবই কম।
উল্লেখ্য, আইডাহোর জনপ্রিয় ‘গানফাইটার স্কাইস’ এয়ার শোটি ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এর আগেও এই শোতে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে হ্যাং গ্লাইডার দুর্ঘটনায় এক পাইলট নিহত হন। এছাড়া ২০০৩ সালেও একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও সেবার পাইলট প্রাণে বেঁচে যান।